মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১

কোন সারের কি কাজ?

গাছের বৃদ্ধিতে সার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সে কারনেই আমরা আপনাকে দিচ্ছি মাত্র ১০০ টাকায় ১০ রকমের সারসহ দরকারি সব উপাদানের মিনি প্যাক এর প্যাকেজ। অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন কোন সার কি কাজ করে? কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেয়া যাক । ভাল ফসল উৎপাদনের জন্য এটা জানা খুবই জরুরী। নিচে কোন রাসায়নিক সারের কি কাজ তা সংক্ষেপে তুলে ধরলাম। ইউরিয়াঃ ইউরিয়া সার গাছের ডালপালা, কান্ড ও পাতার বৃদ্ধি সাধন করে। এই সার গাছপালাকে গাঢ় সবুজ রং প্রদান করে। এর নাইট্রোজেন পাতার সবুজ কণিকা বা ক্লোরফিলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং উদ্ভিদের প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে। টিএসপিঃ টিএসপি, ডিএপি বা ফসফেট জাতীয় সারের ফসফরাস গাছের প্রথম পর্যায়ের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। এছাড়া উদ্ভিদের জীবকোষের বিভাজনে অংশগ্রহণ করে এবং গাছের মূল বা শিকড়ের গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাছাড়া সময় মতো গাছকে ফুল ও ফলে শোভিত করে এবং ফলের পরিপক্কতা ত্বরান্বিত করে। পটাশঃ এমপি সার বা পটাশ সারের পটাশিয়াম পাতার ক্লোরফিল তৈরির অবিচ্ছেদ্য অংশ যা শর্করা প্রস্তুতিতে সহায়তা এবং সেগুলির দেহাভ্যন্তরে চলাচলের পথ সুগম করে। এই সার নাইট্রোজেনের কার্যকারিতার পরিপূরক এবং পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে গাছকে রক্ষা করে। এই সার গাছের খরা সহিঞ্চুতা বাড়ায়, গাছকে মজবুত করে। জিপসামঃ জিপসাম সারের মধ্যে থাকা সালফার নাইট্রোজেন আত্মকরণে সহায়তা করে। এই সার প্রোটিন প্রস্তুতিতে অংশ গ্রহণ করে, তেল উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সালফার ভিটামিন ও কো-এনজাইমের উপাদান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। জিংক সালফেটঃ জিংক সালফেটের জিংক প্রোটিন প্রস্তুতিতে সহায়তা করে এবং হরমোনের কার্যকারিতার জন্য সহায়তা করে। বোরাক্সঃ বোরাক্সের বোরন ফলের বিকৃতি রোধ করে এবং ফুল ফল ধারণে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক সারের মধ্যে জৈব সার,ভার্মি কম্পোস্ট,হাড়ের গুড়া,চা পাতা,কোকোডাস্ট ও ডিমের খোসার গুড়া খুবই উপকারি। এ বিষয়ে প্ল্যান্টশপে অতীতে অনেক পোস্ট লেখা হয়েছে। অামাদের পেইজটা একটু ঘুরে দেখলেই পেয়ে যাবেন। সার প্রয়োগের কিছু সাধারণ নীতিমালা : বীজ, নতুন শিকড় ও গুল্ম জাতীয় গাছের কান্ডের অতি সন্নিকটে বা কোনো ভেজা কচি পাতার ওপর রাসায়নিক সার ব্যবহার করা মোটেই উচিত নয়। রাসায়নিক সারগুলো এক ধরনের ঘনীভূত লবণ বিধায় এগুলো গাছের নাজুক সব বাড়ন্ত অংশকে পুড়িয়ে দিতে পারে। সার যত দূর সম্ভব ভালোভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া সার জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা গভীর পানিতে প্রয়োগ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, জিঙ্ক ও ফসফেট সার একত্রে মিশিয়ে প্রয়োগ করা উচিত নয়। কেননা এসব সারের উপাদানগুলো একে অপরের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে যায় এবং ফসল তা গ্রহণ করতে পারে না। জৈব সার ফসল বপন/রোপণের কমপক্ষে ৭-১০ দিন পরে জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে হবে। সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা মাটিতে মিশানোর কমপক্ষে ৭ দিন পর ধানের চারা রোপণ করতে হবে। গৌণ উপাদানের (গাছের জন্য যে খাদ্যোপাদান কম প্রয়োজন যেমন জিংক, বোরন, ম্যাঙ্গানিজ এসব) দ্রবণ পাতায় ছিটিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে (বিশেষ করে উদ্যান ফসলের ক্ষেত্রে)। সাধারণ ইউরিয়ার পরিবর্তে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে শতকরা ১৫-২০ ভাগ বেশি ফসল পাওয়া যায় এবং পরিমাণে শতকরা ৩০ ভাগ কম লাগে। তাছাড়া গুটি ইউরিয়া মৌসুমে একবার ব্যবহার করতে হয়। জমিতে তিন পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ করা হয়। হাতে ছিটানো, স্থানীয় প্রয়োগ এবং পাতায় বা পল্লব গুচ্ছে সিঞ্চন/ছিটিয়ে দেয়া। হাতে ছিটানো পদ্ধতি সাধারণত মাঠ ফসলে এবং স্থানীয় প্রয়োগ সাধারণত ফল বাগান ও সবজিতে করা হয়। রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলপ্রসূতা বাড়ানোর জন্য ফসল ও মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে সার ব্যবহারের সাধারণ নির্দেশাবলি অনুসরণ করা উচিত। ধান চাষের বেলায় ইউরিয়া ০৩ অংশে ভাগ করে প্রয়োগ করা উচিত। শাকসবজি চাষের বেলায় ফসলের বৃদ্ধির পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউরিয়া ২-৩ ভাগে ভাগ করে প্রয়োগ করা যায়। স্বল্পমেয়াদি ফসলের ক্ষেত্রে ইউরিয়া সারের পুরোমাত্রা শেষ চাষের সময়েই প্রয়োগ করা যায়। অধিকাংশ মশলার ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার ২-৩ ভাগে ভাগ করে প্রয়োগ করতে হবে। ভেজা মাটি অথবা জো আসা মাটিতে পড়ন্ত বিকালে ইউরিয়া উপরিপ্রয়োগ করে উত্তমরূপে মিশিয়ে দিলে সর্বাধিক সুফল পাওয়া যায়। ফসফেট সার জমি তৈরির সময় শেষ চাষের ২/১ দিন আগে প্রয়োগ করা উচিত এবং দস্তা সারও শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির শেষ চাষে পটাশ ও গন্ধক জাতীয় সারগুলো একবারে প্রয়োগ করা চলে। তবে মোটা বুনটযুক্ত মাটিতে পটাশ সার দুইভাগে ভাগ করে ব্যবহার করা যায়। প্রথম ভাগ জমি তৈরির শেষ সময় এবং দ্বিতীয় ভাগ দ্রুত কুশি বের হওয়ার সময় প্রয়োগ করতে হবে। রসুন ফসলে এমওপি সার ব্যবহারের পরিবর্তে পটাসিয়াম সালফেট সার ব্যবহার করতে হবে। সালফার এবং জিংক সারের সুপারিশকৃত মাত্রা শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করা না হলে প্রয়োজনবোধে এগুলো উপরিপ্রয়োগ করে ব্যবহার করা যেতে পারে। সময়মতো ইউরিয়া প্রয়োগের পরেও পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করলে তা সালফারের ঘাটতি বলে ধরে নিতে হবে। এক্ষেত্রে যত শিগগিরই সম্ভব সুপারিশকৃত সালফার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। কচি পাতা সাদা হয়ে গেলে এবং সে সঙ্গে পাতায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাদামি রঙের ছিট দেখা দিলে তা জিঙ্ক সারের ঘাটতির ইঙ্গিত করে। এরূপ লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদিত পুরো মাত্রায় জিঙ্ক সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।

বারো মাস শষা চাষ

আর মরে যাবে না আপনার শখের শসা গাছ শেয়ার করে অন্যদের জানিয়ে দিন পোস্ট লেখার উদ্দেশ্য একটাই। বারান্দা বা ছাদে আমরা অনেক শখ করে শসা চাষ করি। কিন্তু ভালো মানের বীজ চারা থাকার পরও একটা দুইটা শসা হবার পর অনেকেরই গাছ মারা যায়। আ
মাদের ইনবক্সে এই সমস্যা নিয়ে অসংখ্য ম্যাসেজ এসেছে। তাদের একটু সহযোগীতার চেষ্টা করছি। বারান্দায় বা ছাদের টবে শসা চাষের পদ্ধতি চাষের জন্য টব বা প্লাস্টিক অথবা কাঠের কনটেইনারও ব্যবহার করা যায়। মাঝারি সাইজের একটি টব বেছে নিন। প্লাস্টিকের বালতিতেও করতে পারেন। গার্ডেন টাওয়ার করে মাঝারি আকৃতির টবে ১০টি গাছের চাষ করা সম্ভব। গার্ডেন টাওয়ার কি সেটা জানা না থাকলে পরবর্তি পোস্টের জন্য অপেক্ষা করুন। গার্ডেন টাওয়ার টব কিনতে পারবেন প্লান্টশপ থেকেই। মাটি প্রস্তুত শসা উৎপাদনের জন্য উর্বর দো-আঁশ মাটি হলে ভাল হয়। সারা বছর হলেও ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার মধ্যে শসা ভালো হয়। বীজ প্রস্তুত বীজ বপনের ২৪ ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখতে হবে। শসার বীজ জমিতে বোনার আগে মাটিতে জৈব সার মিশিয়ে নিতে হবে। উপরে ছাউনি দিয়ে দিতে হবে। যাতে রোদ, বৃষ্টি না লাগে। বীজ রোপণ সারা বছরই শসা চাষ করা যায়। তবে বীজ বপনের উপযুক্ত সময় ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। বীজের আঁকারের দ্বিগুণ গভীরে বীজ বপন করা ভাল। বিকেলবেলা চারা রোপন করতে হবে এতে চারা কম মরে। চারা লাগানর পরে চারার গোঁড়া মাটি দিয়ে টিপে দিতে হবে। এরপর পানি দিতে হবে। এবার আসছি সব থকে গুরুত্বপূর্ন আলোচনায়। চলুন দেখে নেয়া যাক কোন কারনে সাধারনত দু’একটি ফসল দিয়েই আপনার শসা গাছ মরে যাচ্ছে এবং এর প্রতিকার কি? শসা পানির প্রতি খুব সংবেদশীল। মাটিতে রস কম থাকলেই সেচ দেয়া প্রয়োজন। খেয়াল রাখবেন শসা গাছের মাটি শুকিয়ে গেলে ফুল ঝরে যায় এবং গাছ ঢলে আসে। আবার বর্ষাকালে টবে পানি জমে থাকলেও শসার জন্য ক্ষতিকর। বৃষ্টি বেশি হলে সেচ দেয়ার দরকার নেই। কয়েকদিন পানি জমে থাকলেই গাছের গোঁড়া পচে মরে যেতে পারে। সেজন্য টবে নিস্কাসনের সুব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের কন্টেইনার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়ার জন্য আগেই কন্টেইনারটিতে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে নিতে পারেন। নিয়মগুলো মেনে চললে ইনসাল্লাহ আর মরে যাবে না আপনার শখের শসা গাছ। ভালো মানের বীজ নিতে পারেন plant shop থেকে। ফসল তোলা শসা চাকু দিয়ে কেটে সংগ্রহ করতে হয়। শসা সংগ্রহের পর ভালোভাবে পরিষ্কার করে ছায়াতে ভেজা কাপড় বা চট দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০

ইনডোর প্ল্যান্টের যত্ন

১.মাটিতে বেড়ে ওঠা গাছে অতিরিক্ত পানি দেবেন না। যেহেতু ঘরের ভেতরে রোদ থাকে না, সেহেতু গাছের গোড়ায় পানি জমিয়ে রাখা চলবে না। এতে পচে যাবে গাছের শিকড়। লম্বা একটি কাঠি টবের মাটিতে ঢুকিয়ে তুলে আনুন। কাঠির গায়ে যদি ভেজা মাটি লেগে থাকে, তাহলে বুঝবেন গাছে পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ২.একদম বদ্ধ ও ভ্যাপসা ঘরে গাছ রাখবেন না। এতে গাছে ফাঙ্গাস আক্রমণ করতে পারে। যে ঘরে আলো-বাতাস চলাচল করে, সেখানেই রাখুন গাছ। যে ঘরে এসি চলে বা ঘরের তাপমাত্রা ঘন ঘন পরিবর্তন হয়, সেখানে গাছ না রাখাই ভালো। ৩.টবে যেন ঝরা ফুল, শুকনো পাতা জমে না থাকে। গাছের পাতায় ঘরের ধুলা-ময়লা জমলে শুকনা সুতির কাপড় বা স্পাঞ্জ দিয়ে হালকা করে মুছে নিন। ৪.গাছের পাতা ছোট হলে স্প্রে বোতলে পানি ভরে স্প্রে করে পাতা পরিষ্কার করুন। গাছে কুঁড়ি আসলে টব এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাবেন না। এতে কুঁড়ি ঝরে যায়। ৫.একসঙ্গে অনেক গাছ পরিষ্কার করতে চাইলে শাওয়ারের তলায় গাছগুলো রাখুন। তবে পরিষ্কার করার আগে গাছের গোড়ার অংশ ও তার চারদিক প্লাস্টিক দিয়ে মুড়ে দেবেন। নইলে গাছের মাটি ধুয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ৬.পানিতে বড় হওয়া গাছের পানি নির্দিষ্ট সময় পর পর বদলে দেবেন। ৭.গাছে পোকামাকড়ের অত্যাচার কমাতে পানিতে অ্যাসপিরিন জাতীয় ট্যাবলেট গুঁড়া করে মিশিয়ে নিন। বোতলে ভরে গাছের পাতায় মাঝে মাঝে স্প্রে করুন। ৮. যে পটে অথবা টবে গাছগুলো রাখবেন, খেয়াল রাখবেন সেগুলোর নিচে যেন অন্তত একটি ছিদ্র থাকে। ৯. শুধু গাছের গোড়ায় পানি দিলেই কাজ শেষ এমনটা ভাবার কারণ নেই। গাছের পাতায় সপ্তাহে তিনদিন পানি স্প্রে করুন। এতে গাছের পাতায় ধুলাবালি জমবে না এবং গাছগুলোর মধ্যে সতেজ ভাব থাকবে। তবে রবার ও স্ন্যাক প্ল্যান্টের যত্ন আলাদা। এ বিষয়ে পরবর্তী পোস্ট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। ১০ .পাতা পরিস্কার করার সময় অল্প নিমের তেল বা এন্টি-ইন্সেক্টিসাইড সাবান ব্যবহার করতে পারেন। plant shop এর সব ইনডোর প্ল্যান্ট দেখতে এখানে ❣️ক্লিক করুন

মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

গাছ ভালোবাসি কিন্তু রোদ নেই😥(Ep-1)

 কম আলো,রোদ আসেনা বলে অনেকেই মন খারাপ করে থাকেন। আজ থেকে শুরু হলো Plant Shop এর নতুন পর্ব ‘গাছ ভালোবাসি কিন্তু রোদ নেই😥’। যেখানে আমরা আলোচনা করবো এ পরিবেশে কি কি গাছ রাখা যাবে।

🌿পর্ব ১

ছায়াযুক্ত বাগানের অন্যতম একটি গাছ বাটারফ্লাই বা অক্সালিস।  যারা নতুন বাগান শুরু করতে যাচ্ছেন তাদের জন্য এটা আদর্শ। সব থেকে সুন্দর এর প্রজাপতির মতো পাতা। কখনো ঘুমায় আবার কখনো জেগে উঠে। যেনো জীবন্ত এক প্রজাপতি। অল্প কিছু নিয়ম মেনে চললেই পাবেন সুন্দর ফুল। এই গাছ দুই রকম হয়। বেগুনি পাতায় সাদা ফুল আর সবুজ পাতায় হালকা মেজেন্টা ফুল হয়। যে কোন মাটিতেই হয় এই গাছ। সকালের হালকা রোদ দিতে পারেন। তবে সরাসরি রোদে এর পাতা পুড়ে যায়। তাই পরোক্ষ আলোই এর জন্য ভালো।  পানি প্রয়োজন অনুযায়ি প্রতিদিনই দিতে হবে। মাটি যেনো একবারে শুকিয়ে না যায়। যদি দেখেন পাতাগুলি নুয়ে পড়েছে। ভয় পাবেন না। বুঝবেন পানির অভাব হয়েছে। পানি দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ পর ঠিক হয়ে যাবে। এর পাতা খুব নরম হওয়াতে নার্সারি থেকে আনতে বা কোথাও নিয়ে যেতে গেলে ভেঙ্গে যেতে পারে। তবে এর বড় সুবিধা হলো কন্দগুলো বেঁচে থাকলেই কিছুদিন পর নতুন পাতা আসবে। গত বছর আমার কিছু গাছ মাটিতে মিশে গিয়েছিলো। এবার সেই টবেই নতুন গাছ পেয়েছি।

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০

Fittonia care



 ফিট্টোনিয়ার যত্ন (খুবই গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট)

www.facebook.com/plantshopbd

বেশি বেশি শেয়ার করুন

অল্প কিছু নিয়ম মেনে চললেই ভালো থাকবে আপনার ফিট্টোনিয়া বা নার্ভ প্ল্যান্ট। অথচ বিভিন্ন গ্রুপে অনেক পোস্ট দেখলাম যে অনেকেরই গাছ মরে গেছে। কথা বলে জানতে পারলাম তারা গাছের সৌন্দর্যে পাগল হয়ে একটু বেশিই যত্ন করতে গিয়েছেন। কেউ তো পানি দিয়ে ভাসিয়ে দিয়েছেন। অনেকে আবার কড়া রোদে রেখে ফিট্টোনিয়ার শুটকি বানিয়েছেন। কেউ আবার একবারে ইনডোরে রেখে দিয়েছেন। নার্সারি থেকে যেহেতু সাকুলেন্ট বলে দিয়েছে তাই পানি ও খুব কম দিয়েছেন ভয়ে। যে কারনে গাছ টিকেনি। আমার যেহেতু বাসায় গাছটা আছে। তাই আমি কিভাবে যত্ন নেই সেটাই আপনাদের শেয়ার করলাম। আপনারাও দয়া করে🌿Plant Shop এর নিজস্ব পোস্টটা কপি-পেস্ট না করে শেয়ার করে অন্যদের জানিয়ে দিন। 

ফিট্টোনিয়া প্ল্যান্টটা মূলত এর পাতার বিভিন্ন কারুকাযের জন্যই মন কাড়ে। সরাসরি দেখলে এটা বাসায় না নিয়ে ফেরার উপায় নেই।দেখতে আর্টিফিশিয়াল মনে হয়। আসলে তো প্রাণ আছে।

💕প্রথমত আপনি যদি ছোট টবে রাখতে না চান এমন মাটি দিতে হবে যেটা খুব সহজেই পানি ফিল্টার করতে পারবে। সরাসরি গার্ডেনিং সয়েল ব্যবহার করবেন না। স্যান্ড,কোকোপিট,ভার্মি,গার্ডেন সয়েল সম পরিমেণে মিশিয়ে নিবেন। সাথে পারলাইট দিতে পারলে খুবই ভালো হয়। পারলাইট দিলে স্যান্ড লাগবে না। গাছটা  রেডিমেড যে ছোট টবে আসে। তাতেই কিন্তু শেপ ভালো থাকে আর কিউটও লাগে। তাই দরকার না পড়লে এতো ঝামেলা না করে ওই টবেই রেখে দিন। 


💞নতুুন কিনে আনার পর অনভিজ্ঞদের বেশিরভাগ যে সমস্যাটা হয় সাকুলেন্ট ভেবে আপনি হয়তো পানি দিলেনই না বা খুবই কম দিলেন। দেখা যাবে পাতা একদম নেতিয়ে পড়েছে। অনেকেই ভাবেন গাছ শেষ। আসলে এটা অনেকটা কয়েন প্ল্যান্ট এর মতো। পানি দিয়ে দিবেন। দেখবেন কিছুক্ষন পর তাজা হয়ে গেছে।


💕পানি জমতে দেয়া যাবে না । সপ্তাহে ১/২ বার পানি দিলেও বাচবে। প্রতিদিন স্প্রে করে অল্প পানি দিতে পারেন। পাতাতেও দিবেন। গাছ ভালো হবে। অতিরিক্ত পানি দিলে গোড়া পচে গাছ মরে যাবে। আবার খুব কম দিলেও সমস্যা। যখন দেখবেন পাতা একটু নেতিয়ে পড়েছে। বুঝবেন আপনার গাছের পানি প্রয়োজন এখনি।

💞ইনডোরে অবশ্যই রাখতে পারবেন। তবে যেখানে সূর্যের আলো সরাসরি না পরে। সরাসরি রোদে গাছের পাতা কুকড়ে যাবে। ব্রাইট লাইট (উজ্জল আলো)এদের পছন্দ। আলোতে না রাখলে পাতায় যে কারুকাজ থাকে সেটা কমে যাবে নতুন পাতায়। আমি আমার উইন্ডোতে রেখেছি। যেখানে সূর্যের আলো গ্লাস দিয়ে ফিল্টার হয়ে আসে। তাতে রোদের তাপটা লাগে না। প্ল্যান্ট ব্রাইট লাইটটা পায়।

আজ এ পর্যন্তই। কারো নতুন কোন সমস্যা হলে কমেন্টে জানাবেন। সমাধান দিতে চেষ্টা করবো।